অন্যের সফলতা দেখলে নিজেদের মধ্যে একটা অন্যরকম হিংসা কাজ করে।

A
হ্যালো বন্ধুরা আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন। আমি আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি। আবারো হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আমি আমার নতুন আরেকটি লেখা নিয়ে। আমার নতুন লেখাতে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আশা করি আমার লেখাগুলো পড়ে সবার ভালো লাগবে।
অন্যের সফলতা দেখলে নিজের মধ্যে একটা অন্যরকম হিংসা কাজ করে। এটা থেকে কিভাবে আমরা সবাই মুক্তি পাবো?
কপিরাইট মুক্ত ছবি pixabay.com থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে
আশেপাশের কেউ ভালো একটা জব বা চাকরি পেয়ে গেলে। কোন এক কম্পিটিশনে জিতে গেলে, স্মার্ট কারো সাথেই ইটিশ পিটিশ শুরু করে দিলে, কিংবা প্রোগ্রামিং এ, ডিজাইন এ, পরীক্ষায় ভালো করেই ফেললাম ফেললে আমরা নিজের অজান্তেই তার সাথে নিজেকে তুলনা করি, হিংসা করে তাকে অপছন্দ করা শুরু করে দিয়। ওর ঐটা খারাপ কিংবা আমার এইটা ভালো। অন্তত এই এঙ্গেল থেকে আমি তার চাইতে ভালো আছি বলে ও কখনো নিজেকে মিথ্যা স্বান্তনা পাওয়ার চেষ্টা করি।

অর্থাৎ আশেপাশের মানুষ ভালো কিছু করে ফেললে নিজের ভিতরে ভিতরে একটু আধটু খারাপ লাগা ফিল আসে। এইটা খুবই স্বাভাবিক। আর সোশ্যাল মিডিয়া এর যুগে সবাই যেহেতু সহজেই তার এচিভমেন্ট শেয়ার করতে পারে। তাই অন্যের ভালো দেখে নিজের ভিতরে খারাপ লাগার ফিল হওয়ার ফ্রিকুয়েন্সি অনেক বেড়ে যায়। কিছুদিন পরে আমি অনেক বেশি পিছিয়ে পড়েছি বলে মনে হয় এবং নিজ থেকে নতুন কিছু করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
কপিরাইট মুক্ত ছবি pixabay.com থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে
আমার মতে এই বায়াসনেস তৈরি হওয়ার বড় একটা কারণ হচ্ছে- কারো কোন এচিভমেন্ট দেখলে প্রথমেই আমরা আউটপুট কে কম্পেয়ার করি। ইনপুট বা এফোর্টকে কম্পেয়ার করি না।

ধরো, তোমার ফ্রেন্ড ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকোতে চাকরি পেয়ে গেলো বা গ্রামীণফোনে চাকরি পেয়ে গেলো। অথবা বিদেশে হায়ার স্টাডি করতে টপ ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়ে গেলো। আমরা সেই আউটপুটটা দেখি কিন্তু চিন্তা করে দেখি না যে এই আউটপুট পাওয়ার জন্য সে কতটুকু ইনপুট দিছে। কতটুকু এফোর্ট দিছে, কতটুকু হার্ডওয়ার্ক করছে। সেই হার্ডওয়ার্কটা কি আমি করেছি? সেই লেভেলের বা কিংবা তার চাইতে বেশি একটুও এফোর্ট কি আমি দিছি? তার মতো দিনের পর দিন লেগে থেকেছি? সময় কি দিয়েছি?
কপিরাইট মুক্ত ছবি pixabay.com থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে
তুমি যদি তার লেভেলের হার্ডওয়ার্ক না করে থাকো। তার পরিমান রাত জেগে জেগে ইংলিশ প্রাকটিস না করে থাকো। তাহলে তার মতো পজিশন এ কিভাবে যাবা? সো, তোমার যদি কম্পেয়ার করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আজকে থেকে এফোর্ট দেয়া শুরু করে দাও। এবং তার সমান এফোর্ট দেয়া শেষ হলে তারপর তার আউটপুটের সাথে তোমার আউটপুটের কম্পেয়ার করবে।
কপিরাইট মুক্ত ছবি pixabay.com থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে
ধরো, কেউ একজন খেলায় ভালো করে ফেললে তার হার্ডওয়ার্ক কে না দেখে উল্টা বলে বসি-- ওর হাইট বেশি। তাই পারছে। অথচ ওর চাইতেই দুই ইঞ্চি বেশি হাইট নিয়ে তোমার পাশের বাসার আব্বাস যে গাবগাছ, তালগাছ হয়ে লাঠির মতো দাঁড়িয়ে আছে। সেটা দেখি না। আসলে সব সময় মনে রাখবে, অন্যের সফলতার মধ্যে নেতিবাচক কারণ খুঁজে বের করার মানে হচ্ছে তোমার নিজের যে সামর্থ নাই সেটাকে প্রকাশ করা।
আমার লেখাগুলো কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপনারা সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন এই কামনা করি।

Comments

অনেক সুন্দর হয়েছে তোমার পোস্ট টা